বৃশ্চিক
by Piya Sarkar
Reviews
বৃশ্চিক নামের ছোট্ট কলেবরের এই উপন্যাসটা পড়া হয়েছিল ২০২০ সালের এক অনলাইন পূজাবার্ষিকীতে। শুরুতে টিপিকাল ফর্মুলা বেজড মনে হলেও, কয়েক পৃষ্ঠা এগোনোর পর অবাক হই। নিখুঁত ফরেনসিক/মেডিকেল ডিটেইল; ধাপে ধাপে ইনভেস্টিগেশন প্রসিডিওর দেখিয়ে গল্প এগিয়ে যাচ্ছে তরতর করে!
বৃশ্চিকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে স্টোরিটেলিং। টানটান উত্তেজনা বজায় রেখে এগিয়েছে নির্মেদ, নিরেট কাহিনী। রহস্যের পাশাপাশি নিখুঁতভাবে অপরাধীর মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ। টুইস্ট থাকা সত্ত্বেও টুইস্ট বেজড নয়, বরং প্রসিডিওর বেজড স্টোরি হওয়াটাই স্ট্রং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচ্য। জোড়াতালি, কিংবা জোর করে কাকতালীয় বিষয় ঢোকেনি কোথাও। এমনকি শেষ পর্যায়ে এসেও সূক্ষ্ম ফিজিক্সের ডিটেইল মেনে অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়টা মুগ্ধ করে। প্রটাগনিস্ট সাব ইন্সপেক্টর দর্শনা বোস (অথবা লেখক পিয়া সরকার) এর বিচক্ষণতা-বিশ্লেষণ শক্তি দুর্দান্ত।
গল্প নিয়ে অভিযোগ না থাকলেও ক্যারেক্টার ডিটেইলিং নিয়ে কিছুটা অভিযোগ থেকে যায়। দর্শনা বোসের ব্যক্তিগত জীবন কিংবা তার অতীতের গল্প ছায়া-ছায়াভাবে আবির্ভূত হলেও শেষপর্যন্ত অস্পষ্ট থেকে গিয়েছে। যদিও পরবর্তী সিকুয়েলগুলোতে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে বলে ধারণা করা যায়।
ক্রাইম থ্রিলার পড়ে যারা আনন্দ পান, এই বইটা তাদের পছন্দের তালিকায় যুক্ত হবে আশা করি।

শুরুর দিক তাল মেলাতে পারছিলামনা তবে আস্তে আস্তে যখন সবকিছু খোলাসা হলো আর শেষ করলাম বলতে বাধ্য হচ্ছি দুর্দান্ত ছিল এটা। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিলো হিগাশিনোর কোন বই পড়ছি।
টুইস্টটাও দারুন ছিলো। সবমিলিয়ে পারফেক্ট।

অসম্ভব সুন্দর একটা মার্ডার মিস্ট্রি ‘বৃশ্চিক’ । গতবছরের বেশ কিছু বই অবহেলায় জর্জরিত হয়ে টেবিলের এক কোনায় ঝিম মেরে পড়ে ছিল। তারপর কি বুঝে বইটা হাতে নিলাম জানিনা। সম্ভবত বইটার আয়তন ছোট এইজন্য। তারপর শুরু করতেই নিশ্চুপ ডুবে গেলাম বইয়ের গভীরে। শেষ পর্যন্ত পড়ে যখন উঠলাম তখন একটাই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল, ‘এত কম শব্দর ভিতরেও এ ধরনের মার্ডার মিস্ট্রি লেখা যায়? ‘ লেখিকাতে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। তয় উনার আর কোন বই সংগ্রহে নেই । খুব শীঘ্রই সংগ্রহ হবে।
তবে একটা ব্যাপারে পাঠককে খেয়াল রাখা উচিত, এতো কম পৃষ্ঠার মার্ডার মিস্ট্রি হলেও চরিত্রের কোন কমতি নেই। তাই কোন চরিত্রের সাথে অন্য কোন চরিত্রের কি সম্পর্ক সেটা মাথায় ঠিকমতো ঢুকিয়ে নিতে হবে। আমি তো প্রথম দিকে সুমন্ত আর সামন্ত’র মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছিলাম প্রায়। তারপর যেমন মিসেস হালদার ও মঞ্জু হালদার ( একই) । মঞ্জু নামটা পুরুষ বাচক ভেবে অন্য চরিত্রের সাথে গুলিয়ে ফেলছিলাম। একটু সতর্ক হলেই সব ঠিকঠাক এগোবে। আর তাতেই পেয়ে যাবেন দুর্দান্ত এক থ্রিলার মিস্ট্রি। সবার জন্য শুভকামনা। যারা গত বছরে বইটিকে অবহেলা করেছেন, এ বছরে একই কাজ করে ভুলের পুনরাবৃত্তি করার দরকার নেই।সংগ্রহে থাকলে চটজলদি শুরু করে দিন।

সুন্দর একটা মার্ডার মিস্ট্রি/পুলিশ প্রসিডিওরাল। বর্ধমানের এক গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তির ছোট মেয়ের স্যাডিস্টিক খুনের রহস্য নিয়েই বইটা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দারুণ সুচারুভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া দেখিয়েছেন লেখিকা। খুবই ভালোভাবে ডেভেলপ করেছেন ক্যারেক্টারগুলো। বিশেষ করে প্ৰটাগোনিস্ট ডিসিপি দর্শনার ক্যারেক্টার। নারী চরিত্রকে অনেকসময় বোল্ড/ পাওয়ারহাউজ হিসেবে দেখানোর প্রবণতা থাকে।
কিন্তু এখানে তেমন ছিল না। সাধারণের মধ্যেই অসাধারণ ভাবে দেখানো হয়েছে চরিত্রটাকে। আগেই বলেছি তদন্তের প্রতিটা ধাপ খুবই সুন্দরভাবে দেখিয়েছেন লেখিকা, সেইসাথে ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের ডিটেইলও ভালোভাবে দিয়েছে। বইটাই শেষের দিকে ভালোই টুইস্ট দিয়েছেন। যদিও টুইস্ট আগেই ধরে ফেলেছি, তবে বইটা টুইস্ট বেইজড নয়, প্রসিডিওরই এর মূল চালিকাশক্তি। মার্ডার মিস্ট্রি/পুলিশ প্রসিডিওরাল জনরার ভক্ত হিসেবে বেশ উপভোগ করেছি বইটা। বুকস্ট্রিটের রিসেন্ট বের হওয়া বইগুলোর মধ্যে এটাই বেশি ভালো লাগল। যেকোনো রহস্য উপন্যাস প্রেমীর-ই ভালো লাগবে। রিকমেন্ডেড।

#পাঠ_প্রতিক্রিয়া
ছোট পরিসরে ছিমছাপ পরিপাটি একটি থ্রিলার উপন্যাস ছিল পিয়া সরকারের লেখা ‘বৃশ্চিক’।
নবগ্রাম নামের একটি গঞ্জ শহরে ভায়োলেন্ট একটি হত্যাকান্ডের সুরাহা করা নিয়ে চিত্রিত হয়েছে গল্পটি। উপন্যাসের মূল চরিত্র পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিটেক্টিভ ডিপার্টমেন্টের সাব-ইনস্পেক্টর দর্শনা বোস কে গোয়েন্দা হিসেবে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। চরিত্রটির সাথে পথ চলায় কাহিনী জটিল না হয়ে খুব সুন্দর ভাবে ক্রিমিনাল সাইকোলজিটা দেখা গিয়েছে যেটি আমাকে মূলত আকৃষ্ট করেছে।
সাধারণত রহস্য উপন্যাসে রহস্য ঘনীভূত কিংবা জটিল করতে বাইরে থেকে থার্ড পার্সন চরিত্রের উপস্থিতি ঘটতে দেখা যায় প্রচুর। এখানে সেরকম কিছু যে ছিলোনা তা বলবোনা। এখানে বরং একইরকম অতীত বর্তমানের মিশেলে কাহিনী তরঙ্গের ওঠানামা ছিলো বেশ কিন্তু চরিত্রগুলো খুব সুন্দর খাপে খাপে বসে যাচ্ছিলো এবং ট্রানজিশন গুলো ছিল স্মুথ।
দর্শনা বোসের তদন্ত প্রকৃতি ধীরগতির কিন্তু সুচারু। পুলিশ প্রসিডিউয়াল কিংবা তদন্তে গিয়ে করা জবাবদিহিতা গুলো আপনা আপনিই জট খুলে দিচ্ছিলো। ধাপে ধাপে করা ইনভেস্টিগেশন ডিটেইল আলাদা করে ব্যাখ্যা করবার প্রয়োজন ছিলোনা। দর্শনা বোসের অতীত ব্যাকগ্রাউন্ডও বেশ ইন্টারেস্ট জাগিয়ে তুলেছে, যদিও সেটার সুরাহা হয়নি। পাশাপাশি শেষাংশে এসে মূল কালপ্রিটকে পাবার পর যে তৃপ্তিটা হচ্ছিলো, এবং সহজ সুন্দর একটা ব্যাখ্যা দিয়ে গল্পটা মীমাংসা যেভাবে করা হলো, সেটা অনেকদিন মিস করেছি। সুন্দর এই ক্রাইম থ্রিলারটি আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। পরের পর্ব বৃশ্চিকচক্র পড়বার জন্য মুখিয়ে আছি।

